রাকিবুল হাসান শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধিঃ
জলদস্যুদের দৌরাত্ম্যে বন্ধের উপক্রম, সুন্দরবনে শুঁটকি বিপর্যয় হয়ে পরেছে তাই শুঁটকির মাচায় নেই মাছ
এমন পরিস্থিতিতে চলতি মৌসুমে ৭ কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অসম্ভব হয়ে পড়বে
মৌসুমটি আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে অধিকাংশ মাচা মাছশূন্য রয়েছে
সুন্দরবনের দুবলার চরে শুঁটকি মৌসুম শেষ হতে এখনো দেড় মাস বাকি। অথচ এখনই খাঁ খাঁ করছে মাছ শুকানোর মাচাগুলো। মাছের তীব্র সংকট এবং জলদস্যুদের দৌরাত্ম্যে বন্ধের উপক্রম হয়েছে দেশের অন্যতম বৃহত্তম এই শুঁটকিপল্লি। মৌসুমের মাঝপথে এমন বিপর্যয়ে হতাশ জেলে ও মহাজনরা। বন বিভাগ বলছে, এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে চলতি মৌসুমে ৭ কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অসম্ভব হয়ে পড়বে।
সরেজমিনে জানা যায়, গত বছরের ২৬ অক্টোবর থেকে দুবলার চর, আলোরকোল, অফিসকেল্লা, নারিকেলবাড়িয়া ও শেলার চরে শুরু হয় চার মাসব্যাপী শুঁটকি তৈরির মৌসুম। মৌসুমটি আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে অধিকাংশ মাচা মাছশূন্য। বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এবার শুঁটকি খাত থেকে ৭ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। গত মৌসুমে আদায় হয়েছিল ৬ কোটি টাকা। চরে জেলেদের থাকার জন্য ৯০০টি ঘর ও ৮০টি দোকান এবং ১০০টি ডিপো তৈরির অনুমোদন দেওয়া হলেও বর্তমানে জেলেদের উপস্থিতি আশঙ্কাজনকহারে কমে গেছে।
জেলে ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বঙ্গোপসাগরে মাছের আকাল এবং দস্যুদের উৎপাত এই সংকটের মূল কারণ। শেলার চরের জেলে মো. সাব্বির জানান, ৪০ বছরের অভিজ্ঞতায় এমন মাছের সংকট তিনি দেখেননি। তিনি বলেন, “একে তো মাছ নেই, তার ওপর দস্যুদের ভয়ে সাগরে নামা যাচ্ছে না। দস্যুতা বন্ধ না হলে এই পেশা ছাড়তে বাধ্য হবো।
শ্যামনগর জেলে সমিতির সভাপতি ও শুঁটকি ব্যবসায়ী মো. সোহারাফ হোসেন জানান, সাগরে নামলেই দস্যুরা জেলেদের অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করছে। বিশেষ করে সুন্দরবনের দুবলার চর ও চাঁদপাই রেঞ্জের দক্ষিণাঞ্চলে দস্যুদের আনাগোনা বেড়েছে। তিনি বলেন, “ঋণ করে সাগরে ট্রলার ভাসিয়েছি, কিন্তু মাছ না পাওয়ায় তেলের খরচও উঠছে না। মহাজন ও জেলেরা ঋণের বোঝা নিয়ে দিশেহারা।
দুবলা ফিশারম্যান গ্রুপের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, মৌসুমের শুরুতে পরিস্থিতি ভালো থাকলেও হঠাৎ করে মাছের আকাল ও দস্যুদের হামলা বেড়ে যাওয়ায় জেলেরা এখন লোকসানের মুখে। সাগর ও সুন্দরবনের খালে মাছ ধরতে গেলেই দস্যু বাহিনীর ধাওয়ার শিকার হতে হচ্ছে।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের দুবলা টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিলটন রায় নিশ্চিত করেছেন যে, জেলেরা পর্যাপ্ত মাছ পাচ্ছেন না। এতে বন বিভাগের রাজস্ব ঘাটতির প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দস্যু দমন ও জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে এই ঐতিহ্যবাহী শুঁটকি শিল্প বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়বে।
মোঃরাকিবুল হাসান
