ডেস্ক রিপোর্ট :১ মে, ২০২৬ সাতক্ষীরায় সাংবাদিকতার লেবাসধারী চিহ্নিত চাঁদাবাজ, ব্ল্যাকমেইলার ও মাদক ব্যবসার হোতা আল আমিন এবং তার সহযোগীদের দ্রুত বিচারের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজপথ। শুক্রবার (১ মে) সকালে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মুখ ও পাটকেলঘাটা এলাকায় তুবা পাইপ এন্ড ফিটিংস ইন্ডাস্ট্রিজ, শ্রমিক কল্যাণ সংস্থা ও সর্বস্তরের জনসাধারণের উদ্যোগে এক বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, জনৈক আল আমিন দীর্ঘ দিন ধরে নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষকে ব্ল্যাকমেইল করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ৯টি মামলা থাকা সত্ত্বেও এখনো রহস্যজনকভাবে সে ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।
মানববন্ধনে ভুক্তভোগীরা জানান, আল আমিন ও তার সহযোগীরা মূলত একটি সংঘবদ্ধ চক্র। সম্প্রতি মীর শাহিন হোসেন নামক এক ব্যক্তি সংবাদ সম্মেলন করলে ‘সরোজমিন বার্তা’র সাংবাদিক মোস্তাফিজুর রহমান তাকে মুঠোফোনে প্রাণনাশের হুমকি দেন। শুধু তাই নয়, ‘দৈনিক সাতক্ষীরা দিগন্ত’ ও ‘ডিএসডি টিভি’র নাম ভাঙিয়ে শ্যামনগর রিডা হাসপাতালের এমডির কাছে বড় অংকের চাঁদা দাবি করে এই চক্রটি।
পরবর্তীতে দৈনিক সাতক্ষীরা দিগন্তের সম্পাদক মো. মেহেদী হাসান শ্যামনগর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করলে আল আমিন ক্ষিপ্ত হয়ে ওই সম্পাদকের পরিবারকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ ও ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে দেয়। তদন্তে দেখা গেছে, অপরাধের কাজে ব্যবহৃত সিমটি আল আমিনের মায়ের নামে নিবন্ধিত।
প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন তুবা পাইপ এন্ড ফিটিংস ইন্ডাস্ট্রিজের ম্যানেজার প্রভাস রায় ও হিসাব রক্ষক আরিফুজ্জামান সিংহ। এছাড়া সুব্রত সরকার, সামাদ, মলয়, মোখলেছুর ও শাহীনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ সংহতি প্রকাশ করেন।
বক্তারা বলেন “আল আমিন সাংবাদিকতা পেশার পবিত্রতা নষ্ট করছে। সে মূলত ‘হলুদ সাংবাদিকতার’ এক কুখ্যাত আইকন। তার মদদদাতাদের ছত্রছায়ায় সে সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। তার ভয়ে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে পেশাদার সাংবাদিকরা পর্যন্ত আজ তটস্থ।”
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষ অভিযোগ করেন, ‘দৈনিক সোনার বাংলা’ নামক একটি ফেসবুক পেজ খুলে আল আমিন দেশ-বিদেশের বিভিন্ন মানুষের নামে মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় ৯টি মামলার আসামি হয়েও তার এই দাম্ভিকতা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সমাবেশ শেষে বক্তারা অবিলম্বে আল আমিনকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। অন্যথায় আগামীতে আরও কঠোর ও বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন শ্রমিক ও জনতা।
